মহাসমাবেশ ২৪ মার্চ ২০১৮

 

মহাসমাবেশ

২৪ মার্চ ২০১৮

 

ভূমিকা : আজ এই জনসমুদ্রে আমি হাজির হয়েছি আপনাদের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে। কি সেই বার্তা- সে বার্তা হচ্ছে, আগামী দিনে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন ইতিহাস গড়ার বার্তা। সর্বগ্রাসী সংকটে নিমজ্জিত দেশের ১৬ কোটি মানুষকে মুক্তি আর স্বস্তির পথ দেখানোর জন্য এই বার্তা নিয়ে এসেছি আপনাদের মাধ্যমে সারাদেশে পৌঁছে দেবার জন্য ।

0১.  সংগ্রামী ভাইয়েরা- দেশের মানুষ আজ কি চায়। তাদের প্রাণের আকুতি আমি শুনতে পাই। মানুষ বাঁচতে চায়, শান্তি চায়, স্বস্তি চায়, জীবনের নিরাপত্তা চায়- আর এই সর্বগ্রাসী সংকট থেকে মুক্তির জন্য পরিবর্তন চায়।

0২.   এই সংকট কারা সৃষ্টি করেছে? আজ থেকে ২৫-৩০ বছর আগে তো এরকম সংকট ছিলো না। গত ২৬ বছর যারা পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছে, তারাই সংকটের পর সংকট সৃষ্টি করেছে। দুটি দল পালাক্রমে দেশ শাসন করে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে।

0৩.  আজ কারো জীবনের নিরাপত্তা নেই। নারী, শিশু, দিনমজুর, ক্ষেতমজুর, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ মহা আতংকের মধ্যে দিন যাপন করছে। নারী-শিশু নির্যাতন হত্যা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। খবরের কাগজ খুললে চোখে পড়ে নারী হত্যা, নারী ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, শিশু হত্যা, শিশু অপহরণ, খুন-গুম-অপহরণের খবর। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল ছাপিয়ে নারীদের উপর অত্যাচার, নারীদের সম্ভ্রমহানি এখন রাজধানীর রাজপথে প্রকাশ্য দিবালোকে চলে এসেছে। কলেজ ফেরত ছাত্রীকে রাজপথে নিগৃহিত হতে হচ্ছে। পুলিশ আছে, প্রশাসন আছে কিন্তু সেদিন একটি মেয়েকে কেউ রক্ষা করতে পারলো না।

0৪.   সারাদেশে চলছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারি, টেন্ডারবাজি। চলছে লুটপাটের মহোৎসব। আগামী প্রজন্ম আজ ধ্বংসের পথে। সামাজিক অবক্ষয় নেমে এসেছে সকল স্তরে। একদিকে বেকারত্বের দূর্বিসহ জ্বালা। প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ শিক্ষিত যুবক বেকারত্বের খাতায় নাম লেখাচ্ছে। তারা হতাশায় ভুগছে। দিনে দিনে তারা বিপথগামী হয়ে যাচ্ছে।

0৫.  মাদক ইয়াবা : মাদকের বিস্তার প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ইয়াবার ছোবলে আমাদের আগামী প্রজন্ম ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে ইয়াবা স¤্রাট। তাদের দমন করার কেউ নেই। এরা দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন তাদের ধারে-কাছেও পৌঁছাতে পারছে না। সরকার কি এতই দূর্বল হয়ে পড়েছে- যে তারা মাদকের বিস্তার রোধ করতে পারছে না? আমি জানতে চাই- মাদক ব্যবসার অন্তরালে যারা আছে- তাদের কেনো ধরা হয়না। মাদক আর ইয়াবার হাত থেকে আমাদের যুব সমাজকে বাঁচাতে হলে- তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। গত ২৫/২৬ বছরের সরকার যা করতে পারিনি- সেটা একমাত্র জাতীয় পার্টিই করতে পারে। তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে- দেশকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা।

0৬.  আগামী প্রজন্মকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। সামাজিক অবক্ষয় থেকে আমাদের যুব সমাজকে রক্ষা করতে হবে। তার জন্য চাই- উপযুক্ত শিক্ষা। সেই শিক্ষা ব্যবস্থায় এখন পচন ধরেছে। ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে শিক্ষার ভবিষ্যত। যে দেশে প্রাইমারী থেকে শুরু করে সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষা পর্যন্ত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়- সে দেশে শিক্ষার বিস্তার ঘটবে কিভাবে? জিপিএ-৫ বাড়িয়ে শিক্ষার অগ্রগতি দেখানো হয়। কিন্তু তারা কিছুই শিখছে না। আগামী প্রজন্ম প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখন যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে- এই পদ্ধতি বাতিল করা না হলে আমাদের সন্তানরা কিছুই শিখতে পারবেনা। এর আগে পরীক্ষায় পাশ করতে কষ্ট করতে হতো- এখন কষ্ট করেও ফেল করা যায়না। এখন পরীক্ষার খাতায় যা খুশি তাই লিখে আসলেই পাশ। তাই এমসিকিউ পদ্ধতি বাতিল করে পুরাতন পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করতে হবে।

0৭.   যে দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সহনশীল পর্যায়ে ঘুষ খেতে হবে- সেদেশের ছাত্ররা কি শিখবে? যে মন্ত্রী স্বীকার করে নিজেই চোর, সেই মন্ত্রীকে সরকার কেনো বহাল রাখেন- তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। এই আত্মস্বীকৃত চোরকে অবিলম্বে বিদায় করা হোক।

0৮.  অর্থনীতির অবস্থা : শেয়ারবাজার বহু আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। শেয়ারবাজারে সর্বশান্তা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আমি পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলাম- এই পুঁজিহারানো সন্তানগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য। কিন্তু তাদের জন্য কিছুই করা হয়নি।

0৯.  ব্যাংকিং খাত প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্যাংকে চলছে জনগণের টাকা লুটপাট। ঋণ নিয়ে খেলাপী হওয়া এখন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলে এসেছে। দেশে এখন ১২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপী হয়ে আছে। বেসিক ব্যাংক, ফার্মার্স ব্যাংক বন্ধের উপক্রম। ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা সরকারের নয়, জনগণের টাকা। সেই টাকা লুটপাট হয়ে যায়, বিদেশে পাচার হয়ে যায়। অথচ সরকার নির্বিকার।

১০.   আমরা নাকি উন্নয়নের মহাসড়কে আছি। দেশের সড়কগুলোর অবস্থা দেখলেই বোঝা যাবে কোন উন্নয়নের মহাসড়কে আছি আমরা। আজ এখানে সারাদেশ থেকে, সকল জেলা থেকে মানুষ এসেছে। আপনারা দেখে এসেছেন- সড়কের কি অবস্থা। উন্নয়ন- সড়কের খানাখন্দে হাবুডুব খাচ্ছে। উন্নয়ন  এখন মহাসড়কে নয়, উন্নয়নের নামে লুটপাট আর সন্ত্রাসের মহোৎসব চলছে।

১১.    আমরা এই দূর্বিসহ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই। জনগণকে সীমাহীন নিপিড়ন থেকে মুক্তি দিতে চাই। সেই মুক্তির কান্ডারি হতে পারে জাতীয় পার্টি। মুক্তির পথ হবে জাতীয় পার্টির শাসন প্রতিষ্ঠা।

১২.   আমরা বছর দেশ পরিচালনা করেছি। আমাদের শাসনামলেই এদেশের মানুষ প্রথম উন্নয়নের স্বাদ পেয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণ করে বলেছিলাম- ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে- বাংলাদেশ বাঁচবে। আমি গ্রামীণ জনগোষ্ঠির উন্নয়নের জন্য ৪৬০টি উপজেলা করেছিলাম। উপজেলার মাধ্যমে উন্নয়নের জোয়ার ৬৮ হাজার গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিলাম। তাদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, ভূমিহীনদের জন্য বাসস্থান, সবার জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করেছিলাম।

১৩.  যখন দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম- তখন এদেশের গ্রামাঞ্চলে কোনো পাকা রাস্তা ছিলো না। গ্রামে হাসপাতাল ছিলো না। গ্রামের মানুষ উন্নত চিকিৎসা কাকে বলে তা জানতো না। আমি উপজেলা সৃষ্টি করে এলজিআরডি’র মাধ্যমে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত উন্নয়নের জোয়ার পৌঁছে দিয়েছিলাম। ১০ হাজার কিলোমিটার নতুন পাকা রাস্তা নির্মাণ করেছি। ৫০৮টি ছোট-বড় ব্রিজ-কালভার্ট তৈরি করেছি। গরুর গাড়িকে যাদুঘরে পাঠিয়েছি।  গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি।

১৪.   আমি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি- তখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতো সাড়ে ৭ শ’  মেগাওয়াট। যখন ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছি তখন উৎপাদন ছিলো ২৮শ’মেগাওয়াট। তখন দেশে প্রয়োজন ছিলো ২৩শ মেগাওয়াট। তাই আমার আমলে লোডশেডিং ছিলো না।

১৫.   অবকাঠামোগত উন্নয়নের উপর ভিত্তি করে দেশের অর্থনীতিকে আমি চাঙ্গা করেছিলাম। মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকা বাজেট দিয়েও সেই বাজেটের অর্থ যথার্থভাবে ব্যবহার করে আমি দেশে যে উন্নয়ন সমৃদ্ধি করেছি- আজকে ৩ লাখ কোটি টাকার বাজেট দিয়েও তা করতে পারছেনা। কারণ, আমার সময় বাজেটের প্রতিটি অর্থ দেশের জন্য ব্যয় হয়েছে। আর এখন বাজেটের অর্থ হয় লুটপাট।

১৬.  আমার সময়ে ব্যাংকে লুটপাট হয়নি। ঋণখেলাপি হওয়া কাকে বলে তা কেউ চিনতেও না। ব্যাংকিং খাতকে প্রাইভেট সেক্টরে দেয়া আমিই চালু করেছিলাম। কিন্তু আমাদের কেউ ব্যাংকের মালিক হতে যায়নি। ৭টি ব্যাংক বেসরকারী খাতে দিয়েছি, ১৮টি ইন্সুরেন্স বেসরকারী খাতে দিয়েছি। যে গ্রামীণ ব্যাংক নোবেল পুরুস্কার পেয়েছে- সেই ব্যাংক আমিই প্রতিষ্ঠা করেছিলাম।

১৭.   আমিই দেশে প্রথম প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। সিলেটে শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশে শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছি। আমি প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিয়েছি।

১৮.  আমার সময়ের ঔষুধ নীতি সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ঔষধ বাতিল করেছি। মানুষের প্রয়োজনীয় ঔষুধের মূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে এসেছি। আমার ঔষুধ নীতির ফলে এখন বিশ্বের ১২৩টি দেশে ঔষুধ রপ্তানি হচ্ছে।

১৯.  গার্মেন্টস : আজকের গার্মেন্টস শিল্প জাতীয় পার্টির সরকারেরই অবদান। আমি গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ সাধনে ব্যাক টু ব্যাক এলসি এবং বন্ডেট ওয়ার হাউস প্রবর্তন করেছি। ফলে দেশের ১৫০টি গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজার গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গার্মেন্টস থেকে আয় ছিল এক থেকে দেড় বিলিয়ন। এখন সেই গার্মেন্টস থেকে আয় হচ্ছে ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা মোট বৈদেশিক আয়ের ৭৫ শতাংশ।

২০.   মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার জাতীয় পার্টিরই অবদান। সৌদিআরবে সৈন্য প্রেরণ করে আমি শান্তিমিশনে বাংলাদেশের সৈন্য প্রেরণের পথ তৈরি করে দিয়েছি।

২১.    আজ দেশ উন্নয়নশীল-এর মর্যাদা পেয়েছে। এর জন্য আমি অভিনন্দন জানাই। তবে এর ভিত্তি রচনা করে গেছে জাতীয় পার্টির সরকার।

২২.  তবে, কেবলমাত্র উন্নয়ন করেই মানুষের চাহিদা পূরণ করা যায় না। আমার সময়ে উন্নয়নের সাথে সুশাসনও প্রতিষ্ঠিত ছিলো। আমার সময়ে খুন-গুম-হত্যা-চাঁদাবাজি ছিলোনা। মানুষের নিরাপত্তা ছিলো। মানুষ সুখে ঘুমাতে পারতো। স্বস্তিতে নিঃশ্বাস ফেলতে পারতো। ২৬ বছর পরও যখন রাস্তা দিয়ে চলি- তখন মানুষ বলে- আপনার সময়ে আমরা ভালো ছিলাম। দেশের মানুষ আবার জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। মানুষের সেই ইচ্ছা পূরণের জন্যই জাতীয় পার্টি এখন ক্ষমতা গ্রহণের জন্য- আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

২৩.   জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোট গঠিত হয়েছে। ৫৮টি দল আমাদের জোটে আছে। জোট গঠনের মধ্য দিয়ে আমরা শক্তি অর্জন করেছি। আগামীতে আমরা এই জোটগতভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। তিনশ’ আসনে আমাদের জোটগত নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। জোটগতভাবেই আমরা নির্বাচন করবো, জোটগতভাবে সরকার গঠন করবো, জোটগতভাবে দেশ পরিচালনা করবো। ইনশাআল্লাহ।

২৪.   দেশে এখন শুধু সামাজিক সংকটই বিরাজ করছে না- রাজনৈতিক সংকটও ঘনিভূত হয়ে আসছে। দেশের সব রাজনৈতিক দল সরকারের উপর আস্থা রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। আমরা নির্বাচনমুখি দল। তাই সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। বিগত দুটি উপ-নির্বাচনে একটিতে আমরা বিজয়ী হয়েছি। আর একটিতে আমাদের বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তার আগে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছি। কিন্তু নাছিরনগরের উপ-নির্বাচনে আমাদের বিজয় যেভাবে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে- তা আগামী জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আস্থাহীনতা সৃষ্টি করেছে। সামনে ৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন রয়েছে- আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাই- অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে। সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

২৫.   আমি নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে আমাদের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে চাই। আমরা কোনো কেয়ারটেকার, সহায়ক কিংবা কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় বিশ্বাস করিনা। কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার জাতীয় পার্টির প্রতি সু-বিচার করেনি। সেই কলংকিত ব্যবস্থা সংবিধান থেকে মুছে গেছে। আমরা সাংবিধানিক ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। তাই, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে, সাংবিধানিক পদ্ধতির অধীনে নির্বাচন করার জন্য- নির্বাচনকালীন সময়ে সংসদের প্রতিনিধিত্বকারি সকল দলের সমন্বয়ে গঠিত অন্তবর্তিকালীন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই সরকার শুধু রুটিন মাফিক রাষ্ট্রীয় কার্য পরিচালনা করবে। নির্বাচনের ব্যাপারে এই অন্তবর্তি সরকারের কোনো ভুমিকা থাকবে না। নির্বাচন পরিচালনা করবে- স্বাধীন নির্বাচন কমিশন।

২৬.  দেশের মানুষ কেনো জাতীয় পার্টিকে ভোট দেবে? আমরা কোনো প্রতিংহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করিনা। দুটি দল প্রতিহিংসার রাজনীতি করে রাজনীতিকে যেভাবে কলুষিত করেছে, দেশকে রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে- সেখান থেকে মুক্তি পেতে হলে- জাতীয় পার্টি ছাড়া আর কোনো বিকল্প নাই।

২৭.   দুটি দল ২৬ বছরে দেশকে যেভাবে সর্বগ্রাসী সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে- সেখান থেকে উত্তোরণের জন্য জাতীয় পার্টির- শান্তি-সমৃদ্ধি ও সহনশীলতার রাজনীতি এবং সহনশীল শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন জাতির সামনে এখন একমাত্র পথ। আমরা অতীতে দেশ পরিচালনায় যে সাফল্য দেখিয়েছি- তার রিপোর্ট কার্ড জনগণের হাতে রয়েছে। তার তুলনায় অন্য দুটি দলের শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, হিংসা, হানাহানি, হত্যা-খুন-নৈরাজ্য ও ধ্বংসের রাজনীতির বিবেচনায়- দেশের মানুষ আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকেই বেছে নেবে ইনশাআল্লাহ।

২৮.   আমরা ক্ষমতায় যেতে পারলে- দেশ ও জনগণের কল্যাণে যেসব কাজ করতে চাই- তার একটি খসড়া আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে চাই। আমি দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে, দেশের কল্যাণে ১৮ দফা কর্মসুচি প্রনয়ণ করেছিলাম। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে ১৮ দফা ছিলো দেশ জাতির কল্যাণের প্রতীক। সেই কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়েই দেশকে আমি উন্নয়নের আলো দেখাতে পেরেছি। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমি আবার নতুনভাবে ১৮টি কর্মসূচী প্রনয়ণ করেছি। সেই কর্মসূচীগুলো এখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে চাই।

২৯.   জাতীয় পার্টির দফা সমূহঃ

০১.   প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।

০২.    নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার করে আনুপাতিক ভোটের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিধান করতে হবে।

০৩.   নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দিতে হবে।

০৪.   উপজেলায় আদালত পুনঃস্থাপনসহ পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মকান্ড স্থানীয় সরকারের হাতে ন্যাস্ত করতে হবে।

০৫.   প্রশাসন এবং বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণমুক্ত রাখতে হবে।

০৬.   ধর্মীয় মূল্যবোধকে সবার উর্দ্ধে স্থান দিতে হবে এবং মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ের বিদ্যুৎ ও পানির বিল মওকুফ করতে হবে।

০৭.    ঘুষ, দূর্ণীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, দখলদারিত্ব দমনে আরো কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।

০৮.   গ্যাস বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা যাবেনা।

০৯.   কৃষকদের ভর্তুকী মূল্যে- সার, ডিজেল ও কীটনাশক সরবরাহ করতে হবে এবং কৃষি উপকরণের কর শুল্ক মওকুফ করতে হবে। কৃষকদের বিরুদ্ধে কোনো সার্টিফিকেট মামলা থাকবেনা। সহজ শর্তে কৃষি ঋণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

১০.    একমাত্র জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থের বিবেচনায় শিল্প প্রতিষ্ঠা ব্যাতিত- কৃষি জমি বা ফসলি জমি নষ্ট করে কোনো স্থাপনা কিংবা আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা আইন করে বন্ধ করতে হবে।

১১.    খাদ্যে ভেজাল কিংবা খাদ্যে বিষাক্ত পদার্থ মিশানোর বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে মৃত্যুদন্ডের বিধান করতে হবে।

১২.    শিক্ষা পদ্ধতি সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিউশন নির্ভরতা কমাতে হবে এবং কোচিং ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। পিএসসি এবং জিএসসি বাতিল করতে হবে।

১৩.   স্বাস্থ্য সেবা খাত উন্নত করতে হবে। ইউনিয়ন ভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র কার্যকর করে সেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে হবে।

১৪.   হরতাল-অবরোধের মত ধ্বংসাত্মক এবং জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবন-যাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করতে হবে।

১৫.   হত্যা-খুন-গুম-ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। এ জাতীয় অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

১৬.  সড়ক দূর্ঘটনা রোধকল্পে অবিলম্বে সকল রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে কমপক্ষে ৫০ ভাগ প্রশস্থ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সেই সাথে সড়ক বিভাজন (ডিভাইডার) নির্মাণ করতে হবে।

১৭.   দ্রুত সময়ের মধ্যে পদ্মাসেতু বাস্তবায়নসহ এখনো যেখানে ফেরী সার্ভিস চালু রয়েছে সেখানে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১৮.   সারা দেশে পর্যায়ক্রমে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রত্যেক উপজেলায় কৃষি ভিত্তিক শিল্পনগরী গড়ে তুলতে হবে।

তাই আসুন, দেশের এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে গঠিত সম্মিলিত জাতীয় জোটকে ভোট দিয়ে দুটি দলের কাছ থেকে দেশকে মুক্ত করি এবং দারিদ্রমুক্ত, বেকারমুক্ত, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত নতুন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করি।

খোদা হাফেজ।

Last Updated (Monday, 02 April 2018 09:51)